1. [email protected] : Dainik Cumilla : Dainik Cumilla
  2. [email protected] : Habibur Monna : Habibur Monna
  3. [email protected] : unikbd :
দেবীদ্বারে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: বিলে ঝাপিয়ে পড়ে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার ২ আসামীকে আটক করেছে পুলিশ - Dainik Cumilla
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দেবীদ্বারে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: বিলে ঝাপিয়ে পড়ে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার ২ আসামীকে আটক করেছে পুলিশ কুমিল্লায় উচ্ছেদ অভিযানে টমসমব্রিজ কাঁচাবাজার গুঁড়িয়ে দিল সিটি করপোরেশন কুমিল্লা জিলা স্কুলের ৩২ শিক্ষার্থী পেল অ্যালামনাই শিক্ষাবৃত্তি নাঙ্গলকোটে জুলাই শহিদ সৈয়দ মুনতাসির রহমান আলিফের শাহাদাত বার্ষিকীতে আলোচনা সভা, দোয়া ও কবর জিয়ারত আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা: কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ২ ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর মানববন্ধন কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ সমূহ দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত জুলাই শহিদের কবরে জুতা পায়ে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন সালামের রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

দেবীদ্বারে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: বিলে ঝাপিয়ে পড়ে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার ২ আসামীকে আটক করেছে পুলিশ

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত

 

আয়শা রহমান প্রজ্ঞা: দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী(১৫)কে প্রেমের প্রস্তাবে রাজী করাতে না পেরে, সড়ক থেকে অটোরিক্সা যোগে তুলে নিয়ে নিজ ঘরে রেখে পালাক্রমে ধর্ষনের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ‍্য প্রযুক্তির মাধ‍্যমে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার “ডালপাড় বিলের” মাঝ থেকে এক শ্বাসরুদ্ধ অভিযানে ২ অভিযুক্তকে আটক করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছন।

গ্রেফতার হওয়া দুই যুবক হলেন,- দেবীদ্বার পৌরএলাকার বারেরা গ্রামের মোঃ রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪), ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ ইসমাইল (২৯)। উভয় ধর্ষক প্রবাস থেকে দেশে আসে এবং তারা দুজনই সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই। ভিক্টিম ও ভিক্টিমের ছোট বোন একই মাদ্রাসায় অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন।

জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮ টায়, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের ফুলগাছতলা বাস স্ট‍্যাশনে।

ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রেখে, ওই দুই ধর্ষক পলাতক থেকে দালালের মাধ‍্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনীময়ে ভিক্টিমের দাদীর সাথে ঘটনার মিমাংসার উদ‍্যোগ নেয়া হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, ঘটনার ৪ দিন পর ৮ জুলাই পুলিশ ভিক্টিম ও ভিক্টিমের বাবা-মা’কে থানায় ডেকে আনেন। পরে ওই দিন দুপুরে ভিক্টিমের মা’ বাদী হয়ে ধর্ষক সবুজ ও ইসমাইল নামে ২ যুবককে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব‍্যাপারে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ইমাম হোসপন জানান, আমরা গোপন সংবাদ এবং তথ‍্য প্রযুক্তির সহায়তায় দুই ধর্ষকের অবস্থান নিশ্চিত করে এসআই ফিরোজ সহ একদল পুলিশ নিয়ে অভিযানে নামি। কসবা ডালটার বিলে পোষাক পাল্টে নামি। ওরা বিলের মাঝখানে একেবারে নির্জন এলাকায় একটি খুপড়ি ভাড়া করে দিনের বেলায় অবস্থান করত এবং রাতের বেলায় অন‍্যত্র চলে যেত। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওরা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালাবার চেষ্টা করে, আমরাও নৌকা থেকে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হই।

ঘটনার বর্ণনায় ভিক্টিম কিশোরী (১৫) জানান, সবুজ আমাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল। আমি রাজী না হওয়ায় ভয় ভিতি দেখিয়ে গত ৪ জুলাই সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় ডেকে নেয়, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে এবং হুমকীর মুখে, সবুজ ও ইসমাই সেখান থেকে অটোযোগে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সবুজের স্ত্রী ডেলিভারির কারনে কুমিল্লা ছিল। সেখানে সবুজ এবং ইসমাইল আমাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে শ্লীলতাহানী করে। এসময় এঘটনা কাউকে জানালে এ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং আমার বাবাকে হত‍্যা করার হুমকী দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে আসলে তাদের ধমকে তাড়িয়ে দেয়।

দুজনই একটু আড়ালে যেয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল,- টাকার বিনিময়ে আমাকে বিক্রি করে দেবে। দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসতে। তখন বুঝলাম সবুজ নারী পাচারকারী। আমি আমার হিজাব পরিবর্তন করে সবুজের স্ত্রীর হিজাব পড়ে কৌশলে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসি এবং বাড়িতে যেয়ে দাদীকে সব খুলে বলি।

দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ভিক্টিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম‍্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় ভিক্টিমের জবানবন্দি রেকর্ড করাই। আমরা খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

তিনি আরও  জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখি এবং মামলা দায়েরের ১১ দিনের মধ্যেই তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হই। এরই মধ‍্যে ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতে ম‍্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করিয়ে নেই। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব‍্যাহত আছে, নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য কিনা তাও যাচাই করা হচ্ছে।

 

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | দৈনিক কুমিল্লা    
Developed By UNIK BD