1. [email protected] : Dainik Cumilla : Dainik Cumilla
  2. [email protected] : Habibur Monna : Habibur Monna
  3. [email protected] : unikbd :
পাওনা টাকার জের ধরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে হত্যা : সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আটক - Dainik Cumilla
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নাঙ্গলকোটে জুলাই শহিদ সৈয়দ মুনতাসির রহমান আলিফের শাহাদাত বার্ষিকীতে আলোচনা সভা, দোয়া ও কবর জিয়ারত আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা: কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ২ ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর মানববন্ধন কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ সমূহ দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত জুলাই শহিদের কবরে জুতা পায়ে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন সালামের রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কুমিল্লায় হাম উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১৬ই জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা নাঙ্গলকোটে স্কাউটস এর ওরিয়েন্টেশন কোর্স

পাওনা টাকার জের ধরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে হত্যা : সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আটক

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৩৩ বার পঠিত

মো: ওমর ফারুক মুন্সী :

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক চেয়ারম্যান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলমকে আটক করেছে থানা পুলিশ। তবে তার ছেলে মামুন পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত ব্যবসায়ী আবু সায়েম (৩৯) উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের চাষারপাড় গ্রামের আবদুর রহিম সরকারের ছেলে। আবু সায়েমের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহত আবু সায়েমের শ্বশুর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গতকাল সোমবার (৮এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে খোরশেদ আলম চেয়ারম্যানের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ৭/৮জন সন্ত্রাসী সায়েমকে অপহরণ করে। অপহরণের খবর পেয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আমরা তাকে খোঁজাখুঁজি করি। এক পর্যায়ে বিকাল ৫টায় খোরশেদ চেয়ারম্যান আমাকে ফোনে জানায়, সায়েম তার ছেলে মামুনের সাথে কাছে আছে। মামুন আমার মেয়ের জামাইর নিকট যৌথ ব্যবসার যে টাকা পাবে, সে টাকা ফেরত দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে রাত সাড়ে ৭টায় খোরশেদ চেয়ারম্যান যাত্রাবাড়ির বাবু বাজার এলাকার একটি বাসায় আমাকে সায়েমের সাথে দেখা করায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় আজ মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যানের বাড়িতে লেনদেনের বিষয়টি মিমাংসা করা হবে। আমি সায়েমকে আমার সাথে নিতে চাইলে চেয়ারম্যান বলে ‘সায়েম তার জিম্মায় থাকবে’। সেখান থেকে তারা রাতেই সায়েমকে নিয়ে প্রাইভেটকারে দেবিদ্বার চলে আসে। প্রাইভেটকারে জায়গা না থাকায় আমি বাসে করে দেবিদ্বারে রওয়ানা হই। আমি কুমিল্লা ময়নামতি এলাকায় আসার পর রাত সাড়ে ১০টায় চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সায়েম চা খাওয়ার কথা বলে তাদের নিকট থেকে পালিয়ে গেছে। পরে রাত সোয়া ১টায় চেয়ারম্যান আবার ফোনে জানায় সায়েম খুবই অসুস্থ তাকে আমি ও আমার স্ত্রী দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, তুমি দ্রুত হাসপাতালে আসো। পরে আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি সায়েমের মরদেহ নিচে পড়ে আছে। মরদেহের চোখ-মুখ ফোলা, গলায় ও পিঠে অসংখ্য দাগ। পরে আমি থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে খোরশেদ চেয়ারম্যানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সায়েমের ছোট ভাই আবু কাউছার সরকার জানান, গত কয়েক বছর আগে আমার বড় ভাই ব্যবসায়ী কাজে টাকার প্রয়োজন হলে সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের ছেলে মামুনের নিকট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে মামুনকে ব্যবসায় পার্টনার করে। পরে ব্যবসায়িক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে মামুন ওই টাকা ফেরত চায়। আমার ভাই তাকে ৭ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে এবং বাকি টাকার জন্য একটি খালি চেক দেয়া হয়। পরে মামুন ওই চেক দিয়ে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা করে। ওই মামলা চলমান থাকাবস্থায় মামুন ও তার বাবা আমার ভাইকে অপহরণ করে। রাতে সায়েম ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেন আমার পিকাপভ্যানটি (যার নম্বার ১২-০৯৯৭) মামুনকে দিয়ে দিলে তাকে ছেড়ে দিবে। এই কথা শুনে আমি পিকআপ ভ্যানটি মামুনকে দিয়ে দেই। এরপরও আমার ভাইকে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে সন্ত্রাসী নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা এ ঘটনায় খোরশেদ চেয়ারম্যান ও তার ছেলের ফাঁসি দাবি করছি।

নিহত সায়েমের আইনজীবি এ্যাডভোকেট আলী আজম খান বলেন, সায়েম আমাকে ফোনে জানায়, তাকে মামলার বাদি মামুন অপহরণ করেছে। আমি তাকে ৯৯৯ ফোন দিতে বলি। সে তার লোকেশন যাত্রাবাড়ি বউ বাজার এলাকার তরমুজ পট্টিতে আছে জানিয়ে লাইন কেটে দেয়। পরে আমি ৯৯৯ ফোন করে যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণের বিষয়টি জানাই।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নয়ন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন। সায়েমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত সায়েমের স্বজনরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলা হলে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | দৈনিক কুমিল্লা    
Developed By UNIK BD