
আয়শা রহমান প্রজ্ঞা:দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ১০ মহরম শোহাদায়ে কারবালার স্মরণে মিলাদ মাহফিল জিকিরা ও তবারুক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার সকাল প্রর্যন্ত উপজেলার ৩নং সুবিল ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামে মাইজ ভান্ডার শরীফের ভক্ত সুফিবাদ গবেষনা ফাউন্ডেশন’ক সাধারন সম্পাদক সুফি মোবারক হোসেন মুরাদ এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মাইজভান্ডার শরীফের খলিফা শাকরা দরবার শরীফের আওলাদ সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন আল শাকরাপুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবীদের উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাসার, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব মোর্শেদ ভূঁইয়া।
মাইজভান্ডার শরীফের খলিফা শাকরা দরবার শরীফের আওলাদ সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন আল শাকরাপুরী তার আলোচনায় বলেন, কারবালার মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে স্বৈরাচারী ও অনৈসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে। ইয়াজিদের অবৈধ ক্ষমতা ও স্বৈরাচারের কাছে আনুগত্য স্বীকার না করে, ইমাম হুসাইন (আ.) জীবন বিসর্জন দিয়ে শিখিয়ে গেছেন যে, অন্যায় ও অসত্যের কাছে কখনও মাথানত করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, কারবালার মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গভীর শোক ও বেদনার। শিয়া ও সুন্নি—উভয় সম্প্রদায়ের মুসলমানরাই এই আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের শাহাদাত সকল মুসলমানকে অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।
বিশেষ অতিথি দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার বলেন, কারবালার ঘটনা শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি বা যুদ্ধ নয়, বরং এটি একটি শাশ্বত আদর্শ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে, সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে এবং মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে কারবালার শিক্ষা মানবজাতির জন্য চিরস্মরণীয়।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি সারা রাত জিকির- আশকার, গজল, গান এবং দোয়ার মধ্যে শেষ করা হয়।