1. [email protected] : Dainik Cumilla : Dainik Cumilla
  2. [email protected] : Habibur Monna : Habibur Monna
  3. [email protected] : unikbd :
দেবীদ্বারে  খালের উপর মক্তব বাতরোম টয়লেট সেফটি টাংকি ময়লার বাগার - Dainik Cumilla
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ২ ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর মানববন্ধন কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ সমূহ দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত জুলাই শহিদের কবরে জুতা পায়ে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন সালামের রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কুমিল্লায় হাম উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১৬ই জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা নাঙ্গলকোটে স্কাউটস এর ওরিয়েন্টেশন কোর্স ব্রাহ্মণপাড়ায় ১১ দলীয় জোটের ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

দেবীদ্বারে  খালের উপর মক্তব বাতরোম টয়লেট সেফটি টাংকি ময়লার বাগার

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত

 

আয়শা রহমান প্রজ্ঞা,দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়নের
“ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ির মসজিদের পাশের নারায়নপুর খালের উপর ফাউন্ডেশন দিয়ে মক্তবের ভবন, বাতরোম, টয়লেট, মসজিদ-মাদ্রাসা-মক্তব, বাড়ির টয়লেটের সেফটি টাংকি, বর্জ্য ফেলের ভাগার নির্মান করায় খালটি নাব‍্যতা হারিয়ে জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির ফসল ও মৎস আহরনের ক্ষেত্রটি বিনস্টের হুমকীতে পড়েছে।

ওই ঘটনায় খালটির উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পরিবেশ বিপর্যয়, ফসল, মাছ ও মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষায়- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, এ খালটি উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়নের নারায়নপুর- আব্দুল্লাহপুর এলাকার গোমতী নদীর স্লুইজ গেইট সংলগ্ন মরা নদীর অংশ এবং মৃতপ্রায় “বুড়ি নদী”র সাথের সংযোগ শাখা খাল।

৬০-৭০ ফুট (পাশের সড়কের অংশ ছাড়া) প্রশস্ত এ খালটি এ এলাকার নারায়নপুর, আব্দুল্লাহপুর, ওয়াহেদপুর, জীবনপুর, কাবিলপুর, রামনগর, শিবনগর, গুঞ্জর গ্রামের বিলের কয়েকশত একর আবাদী জমি ও মৎস আহরণের অন‍্যতম সংযোগখাল।

যে খালটি গোমতী নদীর নারায়নপুর- আব্দুল্লাহপুর স্লুইজগেইট সংলগ্ন “বুড়ি নদী” থেকে ওয়াহেদপুর হয়ে জিন্নতপুর “মনিরাম খাল”, “মরজরা নদী”র সাথে যুক্ত হয়ে এবং পূর্বে শশীদলের “সালদা নদী”, পশ্চিমে “তিতাস” নদী”র সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এ খালটি পূর্বাঞ্চলের কৃষি, মৎস আহরনসহ জীবন জীবীকার একটি অন‍্যতম স্রোতশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ খাল।

নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আয়ুব সরকার বলেন, আমরা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার একটি অন‍্যতম খাল। এ খালের উপর “ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ির মসজিদের বাত রোম, টয়লেট, টয়লেটের টাংকি, পার্শ্ববর্তী বাড়ির টয়লেটের টাংকি, বর্জ্য ফেলার বাগারই নয়, খালের উপর স্থায়ী ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা বিশিষ্ট একটি “মক্তবখানা” নির্মান করা হচ্ছে। ফলে খালের নাব‍্যতা হারিয়ে এবং জলাবদ্ধতা ও পরিবে বিপর্যয়ে এ এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হতে যাচ্ছে।

 

নারায়নপুর গ্রামের কৃষক মো. শাহজাহান সরকার জানান, বর্তমান সরকার যেখানে পানিপ্রবাহ চলমান রাখতে, জলাবদ্ধতা দুরীকরণে, কৃষির উন্নয়ন এবং দেশী মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যে,- খাল খনন এবং খাল সংস্কারের উপর জোরদিচ্ছেন। ঠিক সেই সময় একটি মহল জনস্বার্থ বিবেচনা না করে ধর্মের উন্নয়নের অজুহাতে সরকারি খালের উপর স্থাপনা নির্মাণ করছেন। মসজিদ, বাড়ির টয়লেটের টাংকিগুলোর খোলা পাইপে বর্জ‍্যগুলো খালের পানি দুষিতই নয়, পরিবেশ বিপর্যয়েও মারাত্মক হুমকী হয়ে দাড়িয়েছে।কৃষকদের মাছ ধরারও কোন সুযোগ নেই। প্রশাসনের প্রতি জোর আবেদন জানাচ্ছি,- দ্রুত খালের উপর থেকে স্থাপনা, টয়লেটের টাংকিগুলো অপসারণ করে খালের নাব‍্যতা ও সচলতা ফিরিয়ে আনাসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে মানুষের জানমাল রক্ষা করুন।

এ ব‍্যাপারে “ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ির মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী সাহেব আলী বলেন, আমি মূর্খ মানুষ, আমার ছেলেরা প্রবাসে থাকে, মসজিদ, মক্তবের উন্নয়নে টাকা পাঠায়, তাই এলাকাবাসী আমাকে মসজিদ কমিটির সভাপতি বানিয়েছেন, আমিও ১০ জনের সাথে আছি, ভালোমন্দ বুঝিনা, তবে নিজস্ব জায়গায় কিংবা জমি কিনে ভবন নির্মাণ করলেও এতো টাকা খরচ হতনা। কি আর করার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন‍্য কাজ করছে, আমি আর সভাপতি থাকবনা, এসব ভালো লাগেনা।

মসজিদ কমিটির কোষাধক্ষ‍্য মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, মসজিদ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মানে আভ‍্যন্তরিণ সমস‍্যা দেখা দিয়েছে, আমি একমাসের জন‍্য দায়িত্ব নিয়েছি। এর পর আর এ দায়িত্বে থাকবনা। মসজিদ সংলগ্ন সড়কের মাথায় অন‍্য একটি মাদ্রাসার গেইট নির্মানে আমরা বাঁধা দিয়েছিলাম, তাই ওরা আমাদের মসজিদ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মান বন্ধে প্রশাসনের বরাবর অভিযোগ করার কারনে এখন এ জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে মক্তবের নিচের অংশে পিলার দিয়ে পানি চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, খালের উপর স্থাপনা নির্মান হচ্ছে এমন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি, তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে এখনই ঘটনাস্থল লোক পাঠাচ্ছি।

এ ব‍্যপারে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম খানের উপর সেফটি টাংকি নির্মানের অভিযোগ পেয়েছি, তবে খালের উপর ফাউন্ডেশন দিয়ে মক্তব নির্মাণ হচ্ছে এ বিষয়টা কেউ জানায়নি, বিষয়টা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

 

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | দৈনিক কুমিল্লা    
Developed By UNIK BD