1. [email protected] : Dainik Cumilla : Dainik Cumilla
  2. [email protected] : Habibur Monna : Habibur Monna
  3. [email protected] : unikbd :
স্ত্রীর ২৪ লাখ টাকায় বাড়ি নির্মাণ, শ্বশুরের ধর্ষণ চেষ্টা ফাঁস করায় বাড়ি ছাড়া - Dainik Cumilla
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ২ ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর মানববন্ধন কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ সমূহ দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত জুলাই শহিদের কবরে জুতা পায়ে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন সালামের রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কুমিল্লায় হাম উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১৬ই জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা নাঙ্গলকোটে স্কাউটস এর ওরিয়েন্টেশন কোর্স ব্রাহ্মণপাড়ায় ১১ দলীয় জোটের ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

স্ত্রীর ২৪ লাখ টাকায় বাড়ি নির্মাণ, শ্বশুরের ধর্ষণ চেষ্টা ফাঁস করায় বাড়ি ছাড়া

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১৩ বার পঠিত

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের ধানওড়া দক্ষিণ পাড়ায় রেহানা আক্তার রূপা নামে দুবাই প্রবাসী এক শ্রমজীবী গৃহবধূর আয়ের ২৪ লাখ টাকায় দালান ঘর নির্মাণ করেন শ্বশুর আবুল খায়ের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্বামী খোরশেদ আলমকে নিয়ে দেশে আসেন রূপা, দেশে এসে বসবাস শুরু করেন নিজের উপার্জিত অর্থে নির্মাণ করা শ্বশুরবাড়ির দালান ঘরে। শ্বশুর বাড়িতে আসার কিছুদিন পর সে জানতে পারে তার স্বামী পূর্বে পাশ্ববর্তী লাকসাম উপজেলার গুন্তি গ্রামে বিয়ে করে বনাবনি না হওয়া তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। বাড়ি আসার পর থেকে খোরশেদ পুনরায় অন্যত্রে বিয়ে হওয়া তার পূর্বের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই নারীকে স্বামী থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে আসে স্বামী খোরশেদ। এ নিয়ে উভয় জনের মধ্যে দেখা দেয় পারিবারিক কলহ। এক পর্যায়ে রূপার উপরে নেমে আসে পাশবিক নির্যাতন, নির্যাতনে নষ্ট হয়ে যায় তার গর্ভের সন্তান। স্বামীর নির্যাতনের সুযোগে পুত্রবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় শ্বশুর আবুল খায়ের। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার নারী রেহেনা আক্তার রূপা ঢাকার ওয়ারী থানার পানির ট্যাংকি এলাকার আলা উদ্দিন আকন্দের কন্যা। রেহানা আক্তার রূপা মঙ্গলবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও দরজা খুলেনি শ্বশুর আবুল খায়ের ও তার পরিবারের লোকজন।

‎এঘটনায় স্থানীয় সমাজপতিদের কাছে বিচার প্রথর্না করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ রেহানা আক্তার রূপা। পরে সামাজিক ভাবে সালিসি বৈঠক বসলে রূপা ২৪ লাখ টাকা দিয়েছে দাবি করলে স্বামী খোরশেদ আলম ও শ্বশুর আবুল খায়ের স্বীকার করেন ১০ লাখ। এ ১০ লাখের সাথে রূপার দেনমোহরের ১লাখ যোগ করে তাকে ১১লাখ দেয়ার রায় ঘোষণা করেন সমাজপতিরা। রায় মেনে স্বামী খোরশেদ আলম ও শ্বশুর আবুল খায়ের ৩ ধাপে ৩লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৮লাখ টাকা ১মাস পর দিয়ে তালাক হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রূপাকে তার উপার্জিত অর্থে নির্মিত বিল্ডিং থেকে বের করার পর থেকে টাকা দিতে টালবাহানা করে আসছে শ্বশুর আবুল খায়ের। এরই ফাঁকে পুনরায় দুবাই চলে যান স্বামী খোরশেদ আলম। এঘটনায় নিরুপায় হয়ে লালমাই থানা এবং ওই উপজেলায় দায়িত্ব প্রাপ্ত সেনাবাহিনী ও বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রূপা।

‎ভুক্তভোগী নারী রেহানা আক্তার রূপা বলেন, দুবাইতে প্রেমের সম্পর্ক করে আমাকে বিয়ে করে খোরশেদ। এর পর থেকে আমার উপার্জিত ২৪ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীর বাড়িতে দালান ঘর নির্মাণ করি। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল আমরা দুজন দেশে আসি। দেশে আসার পর সে আমার উপর নির্যাতন করে এবং আমার শ্বশুর কয়েক দফা আমাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। এছাড়া আমার গর্বে আসা দুবাই ও দেশে মিলিয়ে ৩টি সন্তান নষ্ট করে খোরশেদ। তারপরও আমি মুখ বুঝে সব সহ্য করেছি। কিন্তু হঠাৎ কিছুদিন পূর্বে আমার স্বামী তার পূর্বের স্ত্রী কে স্বামীর ঘর থেকে নিয়ে এসে পুনরায় বিয়ে করে। এ বিষয় গুলো নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমার উপর চরম নির্যাতন চালায় তারা। এ নিয়ে সামাজিক ভাবে সালিস বসলে আমার ২৪ লাখ টাকা অস্বীকার করে তারা আমাকে ১১ লাখ টাকা দিতে সম্মত হয়। এখন আমার টাকা না দিয়ে আমার স্বামী পুনরায় ডুবাই চলে গেছে, শ্বশুর দায়িত্ব নিয়েও টাকা পরিশোধ করছে না। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার দাবি করছি।

‎রূপার শ্বশুর বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের দরজা না খোলায় ও শ্বশুর আবুল খায়েরের নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

‎স্থানীয় সমাজপতি আলী হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, মাস্টার আফতাবুল ইসলাম ও মাওলানা একরামুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে সালিসি বৈঠক বসলে খোরশেদ ও আবুল খায়ের ১০ লাখ স্বীকার করে পরে উভয় পক্ষ মিলে দেনমোহর সহ ১১লাখ টাকা খোরশেদের স্ত্রীকে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১১লাখ থেকে ৩লাখ তাকে দেয়া হয়েছে। এখন খোরশেদকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়ার পর থেকে খায়ের ৮লাখ টাকা দিতে গড়িমসি করছে। আমরা অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।

‎লালমাই থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রিদন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলমান আছে।

‎বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন গাজী বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে খোরশেদ আলমের সাথে ফোনে কথা বলি সে আমাকে জানায় তার বাবার কাছে সে পুরো টাকা দিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছে। পরে আমি ফোন দিলে তার বাবা আবুল খায়ের ফোন রিসিভ না করায় গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি, সে আসবে বলে এখনো আসেনি।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | দৈনিক কুমিল্লা    
Developed By UNIK BD