1. [email protected] : Dainik Cumilla : Dainik Cumilla
  2. [email protected] : Habibur Monna : Habibur Monna
  3. [email protected] : unikbd :
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ; থানায় মামলা - Dainik Cumilla
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ২ ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর মানববন্ধন কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ সমূহ দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত জুলাই শহিদের কবরে জুতা পায়ে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন সালামের রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কুমিল্লায় হাম উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১৬ই জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা নাঙ্গলকোটে স্কাউটস এর ওরিয়েন্টেশন কোর্স ব্রাহ্মণপাড়ায় ১১ দলীয় জোটের ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ; থানায় মামলা

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত

 

আয়শা রহমান প্রজ্ঞা: দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী(১৫)কে প্রেমের প্রস্তাবে রাজী করাতে না পেরে অটোরিক্সা যোগে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে নিজ ঘরে দুই ধর্ষক পালাক্রমে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ভিক্টিম কিশোরীর মা’ বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় ধর্ষক সবুজ ও ইসমাইল নামে ২ যুবককে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায়, দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রেখে, ওই দুই ধর্ষক পলাতক থেকে দালালের মাধ‍্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনীময়ে ভিক্টিমের দাদীর সাথে ঘটনার মিমাংসার উদ‍্যোগ নেয়া হয়।

পুলিশ জানায় ওই ঘটনা মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে ভাইরাল হলে ভিক্টিমের বাবা, মা ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পলাতক থাকায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বুধবার দুপুরে ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তরা হলেন,- দেবীদ্বার পৌরএলাকার বারেরা গ্রামের মোঃ রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪), ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ ইসমাইল (২৯)। উভয় ধর্ষক প্রবাস থেকে দেশে আসে এবং তারা দুজনই সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই। ভিক্টিম ও ভিক্টিমের ছোট বোন একই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন।

বারেরা দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন জানান, ভিক্টিম এবং তার ছোট বোন আমার মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। যেদিন ঘটনা ঘটে সেদিন (শনিবার) মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এখন সাময়িক পরীক্ষা চলছে। রবিবার আমি ভিক্টিমের দাদীকে ডেকে এনে তার নাতনীকে তার কাছে তুলে দিয়ে বলি, পরীক্ষা নিয়মিত চালিয়ে যেতে, আর ওই ঘটনা আইনের আশ্রয় কিংবা সামাজিক ভাবে শেষ করে নিতে পরামর্শ দেই।

ভিক্টিমের বাবা জানান, গত রবিবার বিষয়টি আমার মেয়ে ফোনে জানায়। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। আমার স্ত্রীও তখন ঢাকা ছিল। সংবাদ পেয়ে গতকাল আমরা বাড়ি আসি। অভিযুক্তরা নারী পাচারকারী, যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি, যা দেখে সমাজ শিক্ষা পায়। এ ব‍্যপারে আমার মায়ের কোন কথা বা বিষয় আমলে নেইনি।

ভিক্টিম কিশোরী (১৫) জানান, সবুজ আমাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল। আমি রাজী না হওয়ায় ভয় ভিকি দেখিয়ে গত শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় ডেকে নেয়, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে এবং হুমকীর মুখে, সবুজ ও ইসমাই সেখান থেকে অটোযোগে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সবুজের স্ত্রী ডেলিভারির কারনে কুমিল্লা ছিল। সেখানে সবুজ এবং ইসমাইল আমাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে শ্লীলতাহানী করে। এসময় এঘটনা কাউকে জানালে এ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং আমার বাবাকে হত‍্যা করার হুমকী দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে আসলে তাদের ধমকে তাড়িয়ে দেয়।

দুজনই একটু আড়ালে যেয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল,- টাকার বিনিময়ে আমাকে বিক্রি করে দেবে। দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসতে। তখন বুঝলাম সবুজ নারী পাচারকারী। আমি আমার হিজাব পরিবর্তন করে সবুজের স্ত্রীর হিজাব পড়ে কৌশলে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসি এবং বাড়িতে যেয়ে দাদীকে সব খুলে বলি।

ভিক্টিমের দাদী জানান, বারেরা এবং বড়আলমপুর গ্রামের কয়েকজন লোক বিষয়টি গোপন রাখতে বলে এবং ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শেষ করার প্রস্তাব দেয়।

দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ভিক্টিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম‍্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় ভিক্টিমের জবানবন্দি রেকর্ড করাই। আমরা খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

 

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | দৈনিক কুমিল্লা    
Developed By UNIK BD