
আয়শা রহমান প্রজ্ঞা,দেবীদ্বার প্রতিনিধিঃ
দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ ছাত্রী হোস্টেলের পেছনের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো
চলাচলের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবীতে মানবন্ধন ও ইউএনও’র বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ওই মানবন্ধন ও বিক্ষোভ প্রতিবাদ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, আমরা এসএ সরকারি কলেজ হোস্টেল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যবর্তী স্থানে বেশ কিছু স্থায়ী বাসিন্দা চলাচলের কোন সুনির্দিষ্ট রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৪২ বছর ধরে চরম ভোগান্তি ও মানবেতর জীবনযাপন করে আসছি। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।
বক্তারা আরো জানান, আমরা চলাচলে যেমন হোস্টের ভেতর দিয়ে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর টপকে, মই দিয়ে উঠে এবং বস্তা ফেলে যাতায়ত করতে হচ্ছে। অপর দিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাসা বাড়ির ব্যবহৃত পানি, বর্জ্য এবং বৃষ্টির পানি আটকে তীব্র দুর্গন্ধ ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। কলেজ হোস্টেলের পূর্ব পাশ দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুলাহর দৃষ্টি আকর্ষণসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
উল্লেখ্য গত ১৮ জুন সংশ্লিষ্টরা কলেজ ছাত্রাবাসের পূর্ব দিকের অংশে ড্রেন নির্মাণের কথা বলে- নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছ কেটে রাস্তা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় কলেজ শিক্ষার্থীরা এই সীমানা প্রাচীর ভেঙে ও সড়কের ইট তুলে ফেলে। ভোক্তভূগী পরিবারগুলোর দাবী আমরা ড্রেন নির্মাণের অনুমতি নিয়েই প্রশাসনের সহযোগিতায় গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং কলেজ ছাত্রাবাসের নিরাপত্তায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলাম।
অপর দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবী আমাদের কাছে ৩ ফুট জায়গায় ড্রেন নির্মাণ করার কথা বলে কিছু গাছ কাটার অনুমতি চেয়েছে। আমরা শর্তসাপেক্ষ অর্থাৎ ওই ড্রেনের সাথে আমাদের হোস্টেলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও যুক্ত থাকবে। ওরা ড্রেনের কথা বলে সড়ক নির্মাণই নয়, ওরা সীমানা প্রাচীরসহ গেইট নির্মাণ করছিল, তাই তাদের এ কাজে আপত্তি জানিয়েছি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আয়শা বেগম, সফিউল্লাহ মানিক, নুরুল্লাহ রতন, সোনিয়া আক্তার, অমূল্য সূত্রধর প্রমুখ।
পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ইউএনও না থাকায় সিএ ওই স্মারকলিপি গ্রহন করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি ডিসি অফিসে একটি মিটিংএ আছি। স্মারকলিপি’র বিষয়ে আমার জানা নেই, দেবীদ্বার এসেই বলতে পারব। ওই বিষয়ে সমাধানকল্পে আগামী মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে ডেকেছি।