
মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচলের রাস্তা ও অন্যের জমি দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার জমি ও রাস্তা সুরক্ষায় প্রশাসন ও আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগাইশ গ্রামের টিটি সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা হাজী সিরাজুল ইসলাম ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত নাগাইশ মৌজাস্থিত ১৪৩৯ নং বি.এস খতিয়ানের ৩৫৪৩ দাগের ১৪ শতক ভিটি জমি ২০২২ সালে হেবা ঘোষণার মাধ্যমে তার ছয় ছেলের নামে হস্তান্তর করেন। ব্রাহ্মণপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত (দলিল নং- ১৫২০, ১৫২১, ১৫২২, ১৫২৩, ১৫২৪) হেবা ঘোষণা দলিলমূলে প্রত্যেক পুত্র ২.৩৩ শতক ভূমির মালিক হন। ওই জমির পাশ দিয়ে তাদের পরিবারের সদস্য ও আশপাশের প্রায় ২৭টি পরিবারের চলাচলের সুবিধার্থে প্রায় ১৮ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা রাখা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ মাসুদ রানা ও মোঃ মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক তাদের ভোগদখলীয় জমি এবং ওই চলাচলের রাস্তাটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। গত ১৪ মে সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে রাস্তা ও জমি দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাকির হোসেন কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে গত ১ জুন ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে গত ৯ জুন পুনরায় সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করেন অভিযুক্তরা।
জাকির হোসেন বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা জোর করে কাজ করছে। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং হামলার ভয়ভীতি দেখায়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো কাজ হয়নি।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি জমি ও চলাচলের রাস্তা উদ্ধারসহ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।