
মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: চৌদ্দগ্রামের ইউনুস (৫৫) ও পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার নূর আলম (৪৫) দুই বন্ধু দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদের আল আফিফ শহরে যৌথভাবে ব্যবসা করে আসছেন। শনিবার জেদ্দায় ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন তারা। সেখান থেকে ফেরার পথে আল-মাহাদ আদ-দাহাব নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন দুজনই। তাদের মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনায় নিহত ইউনুস মিয়া ৪ মাসের পুত্র সন্তানকে এক নজর দেখতে দেশে আসার কথা ছিল। এছাড়াও প্রবাস জীবনের ২৮ বছরে এই প্রথম কোরবানীর ঈদ স্বজনদের সাথে করার উদ্দেশ্যে ২৭ মে দেশে আসার জন্য বিমানের টিকেটও কনফার্ম করেছিলেন। এ উপলক্ষে সকল কেনাকাটাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। নিহত ইউনুস মিয়ার সন্তানরাসহ পরিবারের সদসর্যা তাকে আনন্দচিত্তে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলো। কিন্তু কে জানতো তাদের সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হবে। শনিবার বিকালে ইউনুস মিয়ার মৃত্যু সংবাদ স্বজনরা জানার পর তাদের আহাজারীতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। নিহত ইউনুস মিয়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের সাবির আলীর বড় ছেলে। তার স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। অপরদিকে নিহত ইউনুস মিয়ার ব্যবসায়ীক পার্টনার ও বন্ধু নূর আলম নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের মৃত খলিল সওদাগরের ছেলে।
নিহত ইউনুসের ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (মারুফ) রোববার সাংবাদিকদের জানান, আমার বড় ভাই আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার দেশে আসলেও কখনো পরিবারের সাথে কুরবানীর ঈদ করতে পারেননি। এবারই প্রথম তিনি কুরবানীর উদ্দেশ্যে ২৭ মে দেশে আসার জন্য বিমানের টিকেটও কনফার্ম করেছিলেন। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৪ মাস। তাকেও তিনি প্রথমবারের মত দেখার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমার বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা ভাইয়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, নূর আলম ও ইউনুস মিয়া সৌদিআরবের রিয়াদে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গাড়ী চালকসহ আহত হয় আরও দুইজন। এবারের কোরবানির ঈদে নুরে আলম ও ইউনুস দেশে আসার কথা ছিল। তারা দুইজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ও নিহত নূরে আলমের ভাগিনা মনির হোসেন জানান, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তার মামা নূর আলম ও তার বন্ধু ইউনুস মিয়া মারা যান।
নিহত নূর আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে ৬ জনের ভরণপোষন চলতো স্বামীর উপার্জনে। তাকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। কিভাবে চলবে সংসার, তা ভাবতে পারছি না। আমার স্বামীর মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল আমিন জানান, সৌদিআরবে নিহত ইউনুস মিয়ার মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
অপরদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রবাসী নূর আলমের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।