
নেকবর হোসেন
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (২৭) হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার ছিনতাইকারী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর এক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক টিটু কুমার নাথ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। একই সঙ্গে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদনও করা হয়। আদালতের ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ জানান, একজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকি চারজন আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী এলাকার ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)। তাদের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং অন্যজন সিএনজি চালক।
র্যাব জানায়, তারা একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য এবং আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি। যাত্রী সেজে ফাঁদ পেতে তারা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে বুলেট বৈরাগী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। এতে আগে থেকেই যাত্রী সেজে অবস্থান করছিল ছিনতাইকারীরা। পরে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, ব্যাগ, ক্যামেরা ও জুতা ছিনিয়ে নেয় এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত ও মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল।
পরে রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রথমে কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে সোহাগকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবিরবাজার এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বুড়িচং থানার এরশাদ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ ও চালককে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।