
খাইরুল আমিন মাসুম, কুবি
টারশিয়ারি স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলা হয়ে থাকে ব্যাক্তি জীবনকে মার্জিত করার অন্যতম আতুড়ঘর। শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনকে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও পরিপাটি করে গড়ে তোলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়েই। এক্ষেত্রে, নিয়মিত চুল ছাটাইকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা হলো প্রাথমিক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ। এছাড়াও, একাডেমিক নোটস, এসাইনমেন্ট, থিসিস ও গবেষণাপত্র প্রিন্ট করা হলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বেসিক নিডস।
দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের জন্য সূলভ মূল্যের সেলুন, লন্ড্রি ও প্রিন্টিং দোকান গড়ে উঠনি। তবে, দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে উঠছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাকেন্দ্র।
ক্যাম্পাসের ভেতরে এই সুবিধাগুলো না থাকায় নানান দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বাইরের দোকানে বেশি মূল্য পরিশোধ করা অনেকটা কষ্টসাধ্য বিষয়। নিয়মিত সেলুন বা লন্ড্রির সুবিধা না থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পরিপাটি থাকার ক্ষেত্রেও আপস করতে হতো।
শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের একাডেমিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে ক্লাসের নোট, প্রেজেন্টেশন স্লাইড এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফটোকপি বা কালার প্রিন্ট। ক্যাম্পাসের বাইরে ফটোকপির দোকানগুলো অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাড়তি খরচ বহন করতে হতো। নতুন এই সেবা কেন্দ্রগুলো চালু হলে শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী মূল্যে এই সুবিধাগুলো পাবেন, যা তাদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়ার সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে তিনটি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে থাকবে সেলুন, লন্ড্রি ও ফটোকপি প্রন্টিং দোকান। বাহিরের দোকানের তুলনায় শিক্ষার্থীদেরকে সূলভ মূল্যে সেবা প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন রাফাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে লন্ড্রি, মানসম্মত সেলুন ও পর্যাপ্ত ফটোকপির দোকানের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রেজেন্টেশন বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরিষ্কার ও আয়রন করা কাপড়ের প্রয়োজন হলেও ভালো লন্ড্রির অভাব রয়েছে। সেলুন কম থাকায় দীর্ঘ সিরিয়াল ও ১৫০ টাকা খরচ গুনতে হয়। অন্যদিকে ফটোকপির দোকানেও সবসময় ভিড় থাকায় সময় নষ্ট ও ভোগান্তি বাড়ছে। তাই এসব ছোট কিন্তু জরুরি সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।আশা করবো খুব দ্রুত সময়ে এই বিষয়গুলো সমাধান হবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: হায়দার আলী বলেন,লন্ড্রি, সেলুন এবং ফটোকপি দোকান ক্যাম্পাসের খুব প্রয়োজনীয় বিষয়।আমরা দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টার পর ইউজিসি থেকে অনুমোদন পেয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত এই দোকান নির্মাণের কাজ শেষ হবে এবং শিক্ষার্থীরা কম টাকায় ভালো সেবা পাবে।