
মোঃরেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা–ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশার ভাড়া কমেনি। বরং ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ানো ভাড়াই এখনো বহাল রয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এ সড়কে ভাড়া এখন দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লা রুটে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ছিল ৬০ টাকা, সেখানে বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ভাড়া আরও বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে যাত্রীদের গাড়িতে তোলা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে সড়কের খারাপ অবস্থার কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলেও এখন সড়কের বড় অংশ সংস্কার হয়েছে। তবু ভাড়া কমেনি। বরং ঈদের সময় বাড়ানো ভাড়াকে স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে।
একাধিক যাত্রী জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে অনেক সময় অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে নারী যাত্রী ও পরিবারসহ ভ্রমণকারীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ন্যায্য ভাড়ায় যানবাহন না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু অসাধু চালক সিন্ডিকেট করে এ ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলছে না।
তবে চালকেরা ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরছেন। ব্রাহ্মণপাড়া–কুমিল্লা রুটের সিএনজি চালক জহির মিয়া বলেন, “ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকে, চাহিদা বাড়ে। তাই একটু বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, সবাইই নিচ্ছে।”
আরেক চালক মানিকের ভাষ্য, “এই এলাকায় গ্যাস স্টেশন না থাকায় দূর থেকে গ্যাস আনতে হয়। গাড়ির যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। তাই আগের ভাড়ায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
এদিকে ঈদ শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার পথে ভোগান্তির কথা জানিয়ে যাত্রী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “পরিবার নিয়ে ঈদ করতে এসে এখন বাড়তি ভাড়া দিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এই সড়কে ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “উৎসব এলেই কিছু অসাধু সিএনজি চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে এ নিয়ে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”