
আয়শা রহমান প্রজ্ঞা, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যা মামলায় ফাঁসীর দন্ডাদেশ প্রাপ্ত মোরশেদ নামে এক আসামী গ্রেফতার করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মাশিকাড়া বাজারে অবস্থিত নিজ ফার্নিচারের দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ফাঁসীর দন্ডাদেশ প্রাপ্ত মোরশেদ (বর্তমান বয়ষ ৩৯ বছর। সে উপজেলার কাশারীখোলা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রায় ২০ বছর পূর্বে অর্থাৎ ২০০৬ সালের ১ মে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার সাতোরা গ্রামে রিয়াদ নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর হত্যা মামলার আসামী ছিল মোরশেদ। কোতয়ালী থানার মামলা নং- ১, জিআর মামলা মামলা নং ২০১/০৬, দন্ড বিধি- ৩০২/ ৩৪, দায়রা- ৫৪৩/১০, তারিখ- ০১/০৫/২০০৬ইং। ওই মামলায় ২০২৩ সালে আদালত স্বাক্ষ প্রমানের ভিত্তিতে ফাঁসীর দন্ডাদেশসহ ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে মোরশেদের স্ত্রী জানান, তার স্বামী কোন মামলার আসামী ছিলেন তিনি এবং তার পরিবারের কেউ জানতেন না।
মোরশেদের বড় ভাই খোরশেদ আলম (৪০) জানান, ওরা স্বপরিবারে জীবীকার তাগিদে কুমিল্লা শহরের সাতোরা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওখানে তাদের মামার বাড়ি ছিল। এখন ওই এলাকায় মামারাও কেউ নেই। ওই সময় রিয়াদ নামে এক কিশোরের মরদেহ খুঁঁজে পায় পুলিশ, তখন জানতে পারি স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। ওই ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে কুমিল্লা কোতয়ালীথানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আমরা ঘটনার পর গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। আমরা ৩ ভাইয়ের মধ্যে মেজো ভাই ইসমাইল প্রবাসে আছে, আমরা দুই ভাই দেশে ছিলাম। আমার ভাই হত্যা মামলার আসামী কিংবা ফাঁসীর দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী আমরা কেন আমার ভাই নিজেও জানেনা।
আজ সন্ধ্যায় পুলিশ কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে থানায় নিয়ে আসেন। আমরা থানায় এসেই জানতে পারি আমার ভাইয়ের হত্যামামলায় ৩ বছর আগেই ফাঁসীর রায় হয়েছে।
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বুধবার রাত পৌনে ১১টায় জানান, ২০২৩ সালে মোরশেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার একটি কাগজ পাই। সে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসীর দন্ডাদেশসহ ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় নিয়ে পলাতক রয়েছেন। আজ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে আসি। তার সাথে কথা বলে জানতে পারি তার বিরুদ্ধে ফাঁসীর রায় হয়েছে সে জানেনা। আমরাও তাকে ফাঁসীর কথা জানাইনি। হঠাৎ ফাঁসীীর সংবাদ শুনে হার্ট এটাক করলে, কথা উঠবে পুলিশ হেফাজতে হার্ট এটাক করেছে।
ওই হত্যা মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি মনিরুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে কোতআলী থানায় যোগাযোগ করেও ডকেটে কোন তথ্য পাইনি। যা আগামীকাল আদালতের নথিতে জানা যাবে।