
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চকবাজার। এখানকার পুলিশ ফাঁড়ি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও সম্প্রতি তা ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ ও ক্ষোভ জমছে স্থানীয়দের মাঝে। তাদের দাবি, ফাঁড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে ‘সোর্স সাজ্জাদ’ নামে পরিচিত একজন ব্যক্তি এবং ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই সিরাজের ‘অদৃশ্য প্রভাব’ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি শক্তিশালী চক্র যেন ফাঁড়ির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে, আর এর ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ – সোর্স পরিচয়ে সাজ্জাদ ফাঁড়িতে অবাধে যাতায়াত করেন। পুলিশের নাম ব্যবহার করে চেকপোস্ট, অভিযান কিংবা ‘মীমাংসা’-র নামে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও শোনা যায়।
অনেকে আরও অভিযোগ করেন, কারও সঙ্গে সামান্য বিরোধ দেখা দিলেও তা সমাধানের নামে টাকা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করলে হয়রানি বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, “ফাঁড়িতে পুলিশ নয়, সোর্স সাজ্জাদই নাকি ‘শেষ কথা’—এমন পরিস্থিতি কল্পনাতীত।”
চকবাজারের দুইজন দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমাদের দুই দোকানে চুরি হয়। চকবাজার পুলিশ ফাড়ি এত কাছে থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাজারের দুই দোকানে চুরি হয়েছে। প্রায় বাজারে চুরি হলেও পুলিশ নিশক্রিয় থাকে।
স্থানীয়দের মতে, সোর্স সাজ্জাদের দাপট টিকে আছে মূলত ফাঁড়ির ভেতরকার কিছু প্রভাবশালী সদস্যের সহায়তায়। এএসআই সিরাজকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—তিনি এ বিষয়ে ‘দেখেও না দেখার’ ভঙ্গি নিয়ে চলছেন।
রহিমুল ইসলাম হিমেল জানান,“ফাঁড়ি থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় গেলে উল্টো ভয় তৈরি হয়। এখানকার পরিবেশ মানুষকে ভীত করে।”
আরিফ আহম্মেদ বলেন,“চকবাজার এলাকায় এখন পুলিশের পাশাপাশি একদল প্রভাবশালী গোষ্ঠীরও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে মনে হয়।”
এ বিষয়ে এএসআই সিরাজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“সাজ্জাদ বা অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই মিথ্যা।”
চকবাজার-ইপিজেড এলাকায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেশি। ইপিজেডের শ্রমিক রাবেয়া খাতুন বলেন,“রাতে বাসায় ফেরা কঠিন হয়ে গেছে। ফাঁড়িতে গেলে সহায়তার বদলে চাপ সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভয় পেয়ে বিষয়গুলো চেপে যান।”
অভিযোগ নিয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ‘সোর্স’ পরিচিত সাজ্জাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করতেও যোগাযোগ করা যায়নি।
এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন,“আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, চকবাজার ফাঁড়ি কি অপরাধ দমনের স্থান, নাকি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিরাপদ আস্তানা? তাদের মতে, এখনই স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা হলে ফাঁড়ির ওপর মানিষের আস্থা কমে যাবে, যা নগর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।