
মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
সকাল-সন্ধ্যা শীতের আমেজ বইছে, অগ্রহায়ণ শেষের দিকে আবহাওয়ার বেশ পরিবর্তন হয়েছে পুরোপুরি শীত আসতে যদিও আরও কিছুদিন বাকি। এদিকে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার লেপ-তোষকের কারিগররা। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দিনরাত কাজ করছেন তারা, যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। তবে, আধুনিক সময়ে এসে নানা ধরনের কম্বল বাজারে আসায় আগের তুলনায় বেচা বিক্রি কমেছে বলে আক্ষেপ লেপ-তোষকের কারিগরদের।
সরেজমিনে,উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে লেপ-তোষকের কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দোকানে দোকানে চলছে লেপ, তোষক, বালিশ, কোলবালিশ ও জাজিম তৈরির প্রতিযোগিতা। এবার আকারভেদে প্রতি পিস লেপ বিক্রি হচ্ছে ১৫ শ থেকে ১৮শ টাকায়, তোষক ২২ শত থেকে ৩০ হাজার, জাজিম ৫ হাজর থকে ৬হাজার ও বালিশ জোড়া ৪শ থেকে ৫শ টাকায়।
ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের লেপ-তোশকের দোকানি মিজার বেডিং এর মালিক মিজান মিয়া জানান, বছরের প্রায় আট মাস তেমন বেশি কাজ হয় না। শীতের ৪ মাসের আয়-রোজগার দিয়ে বাকি আট মাস চলতে হয় তাদের। তাই দিন রাতে কাজ করতে হয় শীতের মৌসুমে। তবে, আধুনিক সময়ে এসে বাহারি ডিজাইনের কম্বল বাজারে আসায় কমে এসেছে লেপ-তোষকের চাহিদা।
লেপ-তোষকের কারিগর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রাসেল বেডিং স্টোরের মালিক আমির হোসেন জানান, বর্তমান বাজারে কম্বলের চাহিদা বেশি, তাই দিন দিন লেপ-তোষকের চাহিদা কিছুটা কমে এসেছে। বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের অলস কাটাতে হয়। শীতের ২-৩ মাসই আমাদের ব্যাবসায়িক মৌসুম। যার কারণে এই সময়ে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেশিই থাকে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা মতো লেপ-তোষক তৈরি করে আমাদের এসব ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। একেকজন কারিগর প্রতিদিন ৫-৬টি করে লেপ তৈরি করতে পারে। তবে আশা করছি সামনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে লেপ-তোষকের চাহিদা যেমন বাড়বে তেমনি আমাদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যাবে।সিদলাই বাজারে লেপ-তোষকের আরেক কারিগর জমির হোসেন বলেন, এবার শীতের আগেই সন্ধ্যারাত থেকে ভোর বেলা পর্যন্ত কিছুটা ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। এতে কিছু কিছু অর্ডার হচ্ছে। তীব্র শীত শুরু হলে দোকানগুলোতে চাপ আরও বাড়বে।
লেপ-তোষক ক্রয় করতে আসা ব্রাহ্মণপাড়ার আবুল হাসেম বলেন, বর্তমানে শেষ রাতে ঠান্ডা লাগে, তাই আগেভাগেই একটি পুরাতন লেপের তুলা বদলিয়ে নতুন কাপড় দিয়ে সেলাই করে নিচ্ছি। সাথে একটি নতুন লেপ কিনেছি। তবে গতবারের চেয়ে তুলা ও কাপড়ের দাম অনেকটা বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর লেপের দাম বেড়ে গেছে ।