1. [email protected] : Dainik Cumilla : Dainik Cumilla
  2. [email protected] : Habibur Monna : Habibur Monna
  3. [email protected] : unikbd :
সাবেক শিক্ষার্থী ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে কুবি উপাচার্যের বলয় - Dainik Cumilla
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত ২ ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর মানববন্ধন কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু ১৬ আগস্ট সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্রের সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধ সমূহ দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত জুলাই শহিদের কবরে জুতা পায়ে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন সালামের রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কুমিল্লায় হাম উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১৬ই জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা নাঙ্গলকোটে স্কাউটস এর ওরিয়েন্টেশন কোর্স ব্রাহ্মণপাড়ায় ১১ দলীয় জোটের ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ ব্রাহ্মণপাড়ায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

সাবেক শিক্ষার্থী ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে কুবি উপাচার্যের বলয়

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১১২৪ বার পঠিত

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে নিয়ে নিজের বলয় তৈরি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গণমাধ্যমে। তাদের কেউ শিক্ষার্থী মারধরের মামলা এবং আবার কেউ হত্যা মামলার আসামি; খেটেছেন জেল, বেধড়ক পিটিয়েছেন শিক্ষার্থীদেরও। সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষকদেরও পিটিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি উপাচার্যসহ ২০ নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করছে। এদিকে উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষকদের এমন মারধরে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

এসব বহিরাগত ও হত্যা মামলার আসামিরা উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকার জন্য সক্রিয় ভুমিকা পালন করে। যখনই উপাচার্যের কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি প্রকাশ পায় তখনই তারা উপাচার্যকে রক্ষার্থে ফেসবুক প্রচারণা চালায় এবং কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে। শিক্ষকদের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলার জেরে শিক্ষকরা দুইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন যোগদানের পরপরই অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেন তাদের কয়েকজন। উপাচার্য ও প্রক্টরের ইন্ধনে ঐ অস্ত্র মহড়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি, মারধর করে আসছেন তারা। পরে শিক্ষকদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা শুরু করেন। তবে এসব অঘটন ঘটলেও কোনো বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। উল্টো উপাচার্যকে তাদের সাথে বিভিন্ন উৎসব পালন ও মিটিং করে দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি ঘটনার আগে উপাচার্যের বাংলোতে বসে মিটিং করেন তারা।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারী শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ উপাচার্যের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে কার্যালয়ের বাহিরে অবস্থানরত এসব বহিরাগত, হত্যা মামলার আসামি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও দোলোয়ারের হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষকদের উপর হামলা করা হয় এবং হুমকি প্রদান করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ৭ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি৷ প্রাথমিকভাবে দাবি আদায়ে রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি প্রেরন, পরবর্তীতে তিন দফায় ক্লাস বর্জনের কর্মসূচিও দেয়া হয়। কিন্তু শেষে দাবি আদায় না হওয়ায় কর্মসূচি অনুযায়ী উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে কার্যালয়ে তালা দেন তারা৷ পরবর্তীতে রবিবার (২৮ এপ্রিল) উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের প্রটোকলে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে এলে কয়েকজন শিক্ষক বাঁধা দিলে শিক্ষকদের উপর হামলা করে সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা৷

এসময় উপাচার্যের কার্যালয়ে সিড়ি দিয়ে উঠার সময় নৃবিজ্ঞান ১৪ ব্যাচের রাকেশ দাস ও বাংলা ১৩ ব্যাচের রাকিব হোসাইন শিক্ষকদেরকে শিবির ট্যাগ দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর; শিবিরের চামড়া তুলে নিব আমরা’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। কিন্তু ক্যাম্পাসে এই শিক্ষকদের অধিকাংশই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য।

এরপর উপাচার্য কার্যালয় থেকে এসেই আবারো লোকপ্রশাসন ৪র্থ ব্যাচের রেজা-ই-এলাহি, মার্কেটিং ৯ম ব্যাচের রকিবুল হাসান রকি, লোকপ্রশাসন ৫ম ব্যাচের অনুপম দাস বাঁধন, মার্কেটিং ৪র্থ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাস, নৃবিজ্ঞান ১০ ব্যাচের আমিনুর রহমান বিশ্বাস, অর্থনীতি বিভাগের ৮ম ব্যাচের মাসুদ আলম, আরিফুল ইসলাম বাপ্পী, ফয়সাল হোসেন, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ৯ম ব্যাচের ইকবাল হোসাইন খান, মেহেদী হৃদয়, একই বিভাগের ১০ ব্যাচের পার্থ সরকার, বাংলা ৯ম ব্যাচের ইমরান হোসাইন, প্রত্নতত্ত্ব ১১ ব্যাচের মুশফিকুর রহমান খান তানিম, লোকপ্রশাসন ১১ ব্যাচের এম নুর উদ্দিন হোসাইন, ও ফার্মেসি ১০ম ব্যাচের ইমাম হোসেন, রসায়ন ১৩ ব্যাচের সাব্বির। বাংলা ১৩ তম ব্যাচের রাকিব হোসাইন, লোকপ্রশাসন ১৩ তম ব্যাচের দ্বীপ চৌধুরী, ইকোনমিকস ১৪ ব্যাচের মাসুম, নৃবিজ্ঞান ১৪ ব্যাচের রাকেশ দাস, লোকপ্রশাসন ১৪ ব্যাচের আরমান হোসেন একই বিভাগের ইমরুল কায়েস আবিরসহ আরো ১০/১৫ জন শিক্ষকদের উপর হামলা করে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ দুপুরে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জামিয়া মোহাম্মদিয়া ও শিশু সদন কমপ্লেক্সের সামনে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ এবং বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম রোহানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এবিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বলেন, উপাচার্য তার অপকর্ম ঢাকার জন্য সাবেক শিক্ষার্থী ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে চাকরির প্রলোভনে নিজেস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় এই সন্ত্রাসী বাহিনী শিক্ষকদের উপর হামলা করে। কেউ একাডেমিক, প্রশাসনিক কাজে গেলে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্ভব হয় না৷ এছাড়া আমরা যতবারই দাবি নিয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করতে গেছি ততবারই এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কার্যক্রম লক্ষ্য করেছি। ঐদিনের হামলার পরও উপাচার্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি যার প্রেক্ষিতে তারা আবারো শিক্ষকদের ওপর হামলা করে।

প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, এবিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই।

হামলার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড.এএফএম আবদুল মঈন বলেন, এগুলো মিথ্যা। আর কারা হামলা করেছে আমি তাদের চিনি না।

শেয়ারঃ

এই জাতীয় অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | দৈনিক কুমিল্লা    
Developed By UNIK BD