নেকবর হোসেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে দাঁড়িয়ে ভিডিও তৈরির সময় পড়ে গিয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই যুবক।
বুধবার (০২ এপ্রিল) সাড়ে বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোগড়া রেলওয়ে সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল করিম মিয়ার ছেলে আবদুল কাইয়ুম মিয়া (২২) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাসিন্দা তারেক মিয়া (২০)। আহত দুজন হলেন ইকরাম হোসেন (১৮) ও কসবার বিল্লাল মিয়া (২৫)।
রেলওয়ে পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টার দিকে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন অতিক্রম করে। সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি আখাউড়ার মোগড়া রেলওয়ে সেতু এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের যাত্রীবাহী বগির ছাদে থাকা চার যুবক উঠে দাঁড়ান এবং ভিডিও তৈরি শুরু করেন। তিন যুবক মিলে একজনের ভিডিও করছিলেন। এ সময় রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়া তারে জড়িয়ে ছাদ থেকে পড়ে যান তারা। এতে ঘটনাস্থলেই কাইয়ুম মিয়ার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন আহত তিন জনকে উদ্ধার করেন। দুজনকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও একজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারেক মিয়ার মৃত্যু হয়।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজনকে আনা হয়েছিল। দুজনই অজ্ঞান ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা গোপা পাল ও সানজিদা হক জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। একজনের মাথার খুলিতে ও আরেকজন গলায় ডিশ লাইনের তারের জখম আছে। দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে দাঁড়িয়ে চার যুবক টিকটক ভিডিও তৈরি করছিলেন। ছাদ থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই একজনের ও হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হবে।