
মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। শ্রেণীকক্ষে সহপাঠীদের সামনে শিক্ষকের দেওয়া অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের দাবি । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। নিহত ফারিয়া একই ইউনিয়নের চিওড়া বেগম ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ও চরপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন-রাজিয়া সুলতানা দম্পত্তির সন্তান। লাশের ময়নাতদন্ত ও আইনী প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকালে পুলিশ স্কুলছাত্রীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। আত্মহত্যার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মত ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বিদ্যালয়ে যায়। স্কুলে শ্রেণি পাঠদান চলাকালীন ওই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম ফারিয়ার কাছে স্মার্টফোন রয়েছে বলে জানতে পারে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশী করে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে মোবাইলের গ্যালারিতে থাকা তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখে সহপাঠীদের সামনেই তাকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে অপমান-অপদস্থ করে। পরে মোবাইল ফোনটি ওই শিক্ষক তার জিম্মায় রেখে দেন। সহপাঠীদের সামনে স্যারের দেওয়া অপমান ফারিয়া মেনে নিতে পারেনি। স্কুলের টিফিন বিরতিতে ফারিয়া নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। বাড়ি ফিরে ফারিয়া কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে গলার ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এর আগে সকালে ফারিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা অসুস্থতাজনিত কারণে ডাক্তার দেখাতে কুমিল্লা শহরে চলে যান। তিনি বাড়ি এসে দীর্ঘ সময় ফারিয়ার রুমের দরজা বন্ধ থাকায় এবং তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উকি মেরে দেখে সে গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। এ সময়ে তাদের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে রুমের দরজা ভেঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামায়। পরে সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ভাবে অসুস্থ। মঙ্গলবার সকালে আমি ডাক্তার দেখাতে কুমিল্লা শহরে চলে যাই। আমার মেয়ে প্রতিদিনের মত স্বাভাবিকভাবেই স্কুলে যায়। বিকালে বাড়ি এসে দেখি ফারিয়া আত্মহত্যা করেছে। পরে বিভিন্ন ভাবে জানতে পারি, স্কুলে তার ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম তাকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে মেয়ের স্কুলের ব্যাগ থেকে একটি স্মার্টফোন বের করে নিয়ে যায়। লক খুলে গ্যালারিতে গিয়ে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখে সহপাঠীদের সামনে কটু কথা বলে অপমান করে। অপমান সইতে না পেরে দুপুরে স্কুল বিরতির সময়ে বাড়িতে এসে সবার অগোচরে ফ্যানের সাথে ঝুলে সে আত্মহত্যা করে।
অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। ফারিয়ার কাছে মোবাইল রয়েছে বলে জানতে পেরে তার ব্যাগ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করি। কিন্তু আমি তাকে অপমানজনক কিছু বলিনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জহিরুল কাইয়ুম বলেন, ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া নামে আমার স্কুলের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর সংবাদটি আমি আজ (বুধবার) জানতে পারি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম মঙ্গলবার শ্রেণিকক্ষে স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম ফারিয়ার ব্যাগ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করে কিন্তু এ বিষয়ে ওই শিক্ষক আমাকে কিছু জানায়নি। বর্তমানে ফোনটি স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষিকার নিকট রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে ওয়ারিশা আফরিন ফারিয়া নামে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই লাশ উদ্ধার করে। মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে, কি কারণে আত্মহত্যা করেছে এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।