চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি খড়ের গাদা পুড়ে যাওয়া সহ অন্তত ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগি। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল অনুমান তিনটায় উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণনগর (কে. কে নগর) গ্রামে। সোমবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগি একই গ্রামের মৃত মনা মিয়ার ছেলে মো. আবুল হাশেম (৫৫)।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, পেশায় আমি একজন অটো-রিকশা চালক। শনিবার দুপুরে খাবার খেয়ে আমি ব্যাটারি চালিত অটো-রিকশা নিয়ে জীবিকার তাগিদে বের হয়ে যাই। এ সময় আমার স্ত্রী গোসল করতে গিয়েছিল। ছেলের বউরাও দুপুরের খাবার খেয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে বসতঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এ সুযোগে কেউ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দিয়ে যায়। মিয়াবাজার যাওয়ার পরই বাড়ি থেকে খবর আসে বাড়িতে আগুন লেগেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও অগ্নিকান্ডের এ ঘটনায় আমার ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি খড়ের গাদা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়াও অগ্নিনির্বাপন কাজের সময় প্রচুর লোকসমাগম হয়। তখন কে বা কারা আমার বসতঘরে প্রবেশ করে ঘরে থাকা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার সহ ছেলেকে প্রবাসে পাঠানোর জন্য ঘরে রাখা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অগ্নিকান্ডের এ ঘটনায় আমার তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার বড় ভাই জয়নাল মিয়া ও ছোট ভাই ছুট্টুর সাথে আমাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়। ধারণা করছি, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তারাই সু-কৌশলে আমাদের খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর স্টেশন অফিসার মো. মেহেদী হাসান সুজন বলেন, উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণনগরের অগ্নিকান্ডের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে কেউ আমাদের অবহিত করেনি।