
মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ব্যস্ততা এখন চোখে পড়ার মতো। ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে ছুটে যাচ্ছেন কৃষকরা। কেউ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন, কেউ সেচ, আগাছা দমন ও সার প্রয়োগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ বোরো চারার সমারোহে কৃষি অর্থনীতিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
প্রতিবছরের ন্যায় চলতি মৌসুমেও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমিগুলোতেও দ্রুতগতিতে রোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা।
বোরো ধান আবাদই ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকদের প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা।অনেকের এই ধানের ওপরই নির্ভর করে চলে বছরের সংসার। তাই মৌসুমটি ঘিরে যেমন কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে, তেমনি ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশাও দেখা যাচ্ছে প্রতিটি কৃষকের চোখেমুখে।
তবে কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, ধানের চারা, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপ পড়ছে তাদের ওপর। কৃষকদের মতে, ধানের বাজার মূল্য ভালো না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হলেও সকল কৃষক সেই সুবিধার আওতায় আসতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার শিদলাই, সাহেবাবাদ, মাধবপুর, দুলালপুর ও মালাপাড়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা বোরো আবাদে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারা বলেন, বোরোই আমাদের প্রধান ফসল। এই ধানের ওপরই সারা বছরের সংসার নির্ভর করে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই কম হলে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
এছাড়া অনেক কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। উন্নত জাতের ধান, মানসম্মত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি যান্ত্রিক চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান তারা।
ধান্যদৌল গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া বলেন,
ব্রাহ্মণপাড়া কৃষি অফিস থেকে হাইব্রিড ধান ও সার প্রণোদনা পেয়েছি। এ বছর আমি ৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছি। আমাদের ছয়জনের সংসারে সারা বছরের চালের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ধান বিক্রি করতে পারব আশা করছি।
চান্দলা গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া জানান,
আমি এ বছর দুই কানি (১২০ শতক) জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। ধানের দাম ভালো পেলে এবং রোগবালাই কম হলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো আবদুল মতিন বলেন, এ বছর উপজেলায় বোরোধানের চাড়া ভাল হয়েছে এবং বোরোধান জমি তৈরি ও রোপণ করা হচ্ছে। এ বছর উপজেলায় বোরোধান এর লক্ষ মাত্র ৮হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ মাত্র ছাড়িয়ে যাবে।